ব্যক্তিগত পরিচিতি
আবুল কালাম আজাদ

আবুল কালাম আজাদ (সংক্ষিপ্ত জীবনী)

১৯৬৪ সালের ৪ নভেম্বর প্রভাবশালী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক সূত্রেই তাঁর পূর্বপুরুষেরা জমিদার ছিলেন। তিনি ১৯৯৩: ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে জগন্নাথ কলেজে (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হন, তবে রাজনৈতিক কারণে ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেননি। তাঁর পিতা আলহাজ্ব আক্কাস আলী লস্কর একজন ধার্মিক এবং সমাজে প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় ভাই। খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার ৬নং কয়রা (গুড়িয়াবাড়ি)-তেই তাঁর বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবা করা, সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকা এবং স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজের কল্যাণে নিয়োজিত হওয়ার শিক্ষাই ছিল তাঁর পারিবারিক শিক্ষা।


প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা:

  • ১৯৬৮–১৯৭২: গুড়িয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
  • ১৯৭৪: কয়রার উত্তর বেদকাশি অঞ্চলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।
  • ১৯৭৫–১৯৭৯: যশোর চাকলা সিনিয়র মাদ্রাসাসহ একাধিক মাদ্রাসায় ইসলামী শিক্ষা গ্রহণ করেন।

তিনি দাখিল পরীক্ষায় বৃত্তি লাভ করেন, যা তাঁর মেধার স্বাক্ষর বহন করে।

  • ১৯৭৯–১৯৮৩: খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম ও ফাজিল সম্পন্ন করেন।
  • ১৯৮৩–১৯৯৩: ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল সম্পন্ন করেন।
  • পরবর্তীতে জগন্নাথ কলেজে (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হন, তবে রাজনৈতিক কারণে ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেননি।

ছাত্রজীবন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরে নেতৃত্ব

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নেতৃত্বগুণ ও সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য পরিচিত ছিলেন।

  • ১৯৮১: ফাজিল শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন ইসলামী ছাত্রশিবিরের দাওয়াত গ্রহণ করেন।
  • ১৯৮২: খুলনায় ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
  • ১৯৮৩–১৯৯৩: ঢাকায় অবস্থান করে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

দায়িত্বসমূহ (বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির):

  • ১৯৮৫–১৯৮৬: সভাপতি, মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা শাখা।
  • ১৯৮৭–১৯৮৯: জোনাল ইনচার্জ, ঢাকা মহানগরী।
  • ১৯৮৭–১৯৮৯: কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক, বাংলাদেশ মাদ্রাসা ছাত্র আন্দোলন পরিষদ।
  • ১৯৮৯–১৯৯১: সেক্রেটারি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ।
  • ১৯৯১–১৯৯২: কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক।
  • ১৯৯৩: কেন্দ্রীয় বাইতুলমাল সম্পাদক।

এই সময়ে তিনি ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।


স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা:

তাঁর ছাত্ররাজনৈতিক জীবন ছিল আন্দোলন ও সংগ্রামে পরিপূর্ণ।

  • ১০ জানুয়ারি ১৯৮৬: ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সভাপতি থাকাকালীন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার শিকার হন এবং আহত হন।
  • ১৯৮৫: চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক কুরআন বাজেয়াপ্ত করার রায়ের প্রতিবাদে দেশব্যাপী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
  • একাধিকবার পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য ও সাহসী।


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে রাজনৈতিক দায়িত্ব:

ছাত্র রাজনীতি শেষ করার পর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সরকারের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একাধিকবার কারাবরণ করেছেন।

  • ১৯৯৭–২০১১: খুলনা মহানগরীর সেক্রেটারি হিসাবে দীর্ঘ ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন।
  • ২০১২–২০২২: খুলনা মহানগরীর আমির হিসাবে দীর্ঘ ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেন।
  • ২০২৩–বর্তমান:
    • সহকারী অঞ্চল পরিচালক।
    • কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য।

এই পর্যায়ে তিনি দলীয় তদারকি, নীতিনির্ধারণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।


নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য ও রাজনৈতিক জীবন:

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই একজন আদর্শনিষ্ঠ, সাহসী ও বলিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত। ইসলামী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে আন্দোলন, সংগঠন ও রাজনৈতিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।